৬ মাসের অজ্ঞাতবাস কাটিয়ে দিল্লিতে প্রকাশ্যে গুরুঙ্গ, বললেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত

Thursday, 11 January 2018 3:42 PM

কলকাতা ও নয়াদিল্লি: মাস ছয়েকের অজ্ঞাতবাস কাটিয়ে প্রকাশ্যে এলেন বিমল গুরুং। সূত্রের খবর, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন তিনি।
সিংলার জঙ্গলে যে রাতে এসআই অমিতাভ মালিকের মৃত্যু হয়েছিল, সেই রাতেই শেষবার তাঁর সঠিক অবস্থান জানা গিয়েছিল! ছোট রঙ্গিত নদী পেরিয়ে এভাবেই পালিয়েছিলেন বিমল গুরুং।
তারপর থেকে কার্যত কর্পূরের মতো উবে গিয়েছিলেন একদা পাহাড়ের এই বেতাজ বাদশা! তাঁর খোঁজে সিকিম পর্যন্ত পৌঁছেছিল রাজ্য পুলিশ! বৃহস্পতিবার সেই গুরুংকেই দেখা গেল দিল্লিতে! গুটিকয়েক সাংবাদিককে ডেকে বিবৃতি পাঠ করলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড বিমল গুরুং! বললেন, বাংলার সবাই আমার ভাই-বোন। কোনও বিরোধ নেই। কিন্তু আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পার্থক্য আছে। আমি যা করছি গোর্খাদের স্বাভিমান রক্ষায়। ভারতের সংবিধানের মধ্যে থেকে। ফের একবার গুরুং দাবি করলেন, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দাবি করলেন, স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানোর।
দীর্ঘদিনের অজ্ঞাতবাস কাটিয়ে সামনে আসা গুরুংকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, সংবিধান কী জানে ও! ওখানে বসে বলার কী আছে। দিল্লিতে কেন? নিজের জায়গায় গিয়ে বলুক।
একটা সময় অশান্ত পাহাড়ে বসে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মিত সুর চড়াতেন গুরুং। গোপন ডেরা থেকে ছড়িয়ে দেওয়া অডিও টেপে বলতেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা নয়।
যদিও সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে দাবি, বৃহস্পতিবার গুরুং জানিয়েছেন, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনার জন্য তিনি প্রস্তুত। আলোচনাতেই সমস্যার জট খুলবে।
যদিও রাজ্য প্রশাসন এদিন ফের বুঝিয়ে দিয়েছে, গুরুংকে নিয়ে তারা কড়া অবস্থান থেকে সরছে না। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, রাজ্য সরকার তো আগেই বারবার বলেছে আলোচনা কর, আলোচনা কর। গুরুঙ্গ আইনের শাসন না মেনে, মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। রাষ্ট্রদোহিতার অভিযোগ আছে। ওকে বিচারের সম্মুখীন হতেই হবে।
বিজেপি অবশ্য এখনও খোলাখুলিভাবে সেই গুরুঙকেই সমর্থন করছে। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, গুরুং তো ভারতেরই নাগরিক। ওর বিরুদ্ধে কেস দিয়ে রেখেছে। আর বিনয় তামাং, অন্যতম অভিযুক্ত মমতার হাত ধরেছে। রাজনাথ তো আগেই মমতাকে আলোচনা করতে বলেছেন, কিন্তু মমতা রাজনীতি করছেন।
পাহাড়ে স্থায়ী সমাধানের জন্য বামেরা চায় সর্বদলীয় বৈঠক। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, প্রথম থেকেই আমরা বলেছিলাম আলোচনা। সব পার্টিকে নিয়ে পাহাড়। গুরুংয়ের বিরুদ্ধে ইউএপিএ সহ ৭৭টি মামলা ঝুলছে। তাঁকে খুঁজছে পুলিশ। এই প্রেক্ষাপটে অন্তবর্তী জামিন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন গুরুং।
গত ২০ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালত জানায়, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত বিমল গুরুঙের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ বা অন্য কোনও সরকারি সংস্থা কোনও রকম দমনমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে না। শুনানি হবে ২ সপ্তাহ পর।
এই অন্তবর্তী জামিনের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে জোরাল সওয়াল করে রাজ্য সরকার। চলতি মাসেই ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে। তার ঠিক আগে আচমকা দিল্লিতে হাজির হলেন দার্জিলিং থেকে বেপাত্তা হয়ে যাওয়া বিমল গুরুং!
এরইসঙ্গে কি বিনয় তামাংয়ের হাতে হারানো রাজপাট ফিরে পেতেও উদ্যোগী হবেন গুরুং? কার হাতে থাকবে পাহাড়ের রাশ? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে।

LATEST VIDEO