মৃত শিশুকন্যার বাড়িতে চিঠিতে অ্যাপোলোর দাবি, গাফিলতি হয়নি, কমিশনের নির্দেশেই ক্ষতিপূরণ, ভিক্ষে নয়, শাস্তি চাই, দাবি পরিবারের

By: Parthopratim Ghosh, ABP Ananda | Last Updated: Saturday, 5 August 2017 8:27 PM
মৃত শিশুকন্যার বাড়িতে চিঠিতে অ্যাপোলোর দাবি, গাফিলতি হয়নি, কমিশনের নির্দেশেই ক্ষতিপূরণ, ভিক্ষে নয়, শাস্তি চাই, দাবি পরিবারের

কলকাতা: কুহেলিকাণ্ডে ফের বিতর্কে অ্যাপোলো হাসপাতাল।

চার মাসের কুহেলি চক্রবর্তীর মৃত্যুর ঘটনায় অ্যাপোলো হাসপাতালের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছিল তার পরিবার। অভিযোগের সত্যতা রয়েছে বলে জানিয়ে জুন মাসে অ্যাপোলোকে ৩০ লক্ষ টাকা জরিমানা করে স্বাস্থ্য কমিশন। কিন্তু, এরপরও কোনও নমনীয় অবস্থান নেওয়া তো দূরের কথা, উল্টে অ্যাপোলোর একটি চিঠি কুহেলির বাবা-মায়ের সন্তান হারানোর ক্ষত নতুন করে খুঁচিয়ে তুলেছে। এই চিঠিতে কলকাতা অ্যাপোলোর সিইও দাবি, কুহেলির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের কোনও গাফিলতিই ছিল না। টাকা দেওয়া হচ্ছে শুধু স্বাস্থ্য কমিশনের নির্দেশে সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং সহানুভূতির জায়গা থেকে।

শনিবার সকালে স্পিড পোস্টে আসা ওই চিঠি দেখে রীতিমতো ক্ষুব্ধ কুহেলির বাবা-মা। তাঁদের সাফ কথা, তাঁরা ভিক্ষে চান না, শাস্তি চান।

কুহেলির মা শালু চক্রবর্তী ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেন, আমরা কি ভিখিরি? ভিক্ষে দিচ্ছেন? পরবর্তীকালে যখন এরকম খুন করবেন, এরকম করবেন। মানবিকতা নেই। শিক্ষা হচ্ছে না? তাই এখনও গলা ফাটিয়ে বলে যাচ্ছেন। শাস্তি চাই। শাস্তি আপনাদের দেবই।

অ্যাপোলো যেভাবে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তাতে বিস্মিত কুহেলির বাবা অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ওরা লিখেছে, কমিশনের কথায় দিচ্ছি। আমাদের গাফিলতি নেই। কমিশন তো রায় দিয়েছে আপনারা দোষী।

১৯ এপ্রিল অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যু হয় চার মাসের কুহেলির। বাবা-মায়ের অভিযোগ, কোলনোস্কপির জন্য চার মাসের শিশুটিকে দীর্ঘসময় না খাইয়ে রাখা হয়। এরপর কোলনোস্কপির সময় অ্যানেস্থেশিয়ার ওভারডোজ চার মাসের শিশুটি সইতে পারেনি।

স্বাস্থ্য কমিশনে এই মর্মে অভিযোগও জানান তারা। তদন্ত করে কমিশন যে রিপোর্ট দেয়, তাতে দাবি করা হয়, চিকিত্সায় গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে। শিশুর পরিবারের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। কোলনোস্কপির জন্য ভর্তি করা হলেও, তা না করিয়ে কুহেলির সিগময়ডোস্কপি (Sigmoidoscopy) করা হয়।

কেন বা কার নির্দেশে সিগময়ডোস্কপি হয়েছিল, চিকিত্সা সংক্রান্ত নথিতে তার উল্লেখ নেই। এমনকী ডিহাইড্রেশনের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও কুহেলির অ্যানাস্থেশিয়া করা হয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

২৩ জুন অ্যাপোলো হাসপাতালকে ৩০ লক্ষ টাকা জরিমানা করে কমিশন। কিন্তু এখনও সেই টাকা পায়নি কুহেলির পরিবার।
অ্যাপোলো চিঠিতে দাবি করেছে, ক্ষতিপূরণের টাকা কে পাবে, সেই নাম এখনও তাদের কাছে পৌঁছোয়নি। তাই তারা টাকা দিতে পারেনি।

অ্যাপোলোর চিঠিতে গাফিলতি অস্বীকার এবং উদাসীন হাবভাব দেখেই এখন কুহেলির বাবা-মা ক্ষুব্ধ। মেয়ের ছবি আঁকড়ে ধরে বাবা মা জানিয়েছেন, এই চিঠি সম্পর্কে তাঁরা কমিশনকে জানাবেন। আইনি পথে যাওয়ার ভাবনাও রয়েছে।

First Published: Saturday, 5 August 2017 8:26 PM