হার্টের চিকিৎসা করাতে আসা রোগীর পা বাদ! পরে মৃত্যু, কাঠগড়ায় মেডিকা

By: Web Desk, ABP Ananda | Last Updated: Monday, 13 March 2017 8:06 PM
হার্টের চিকিৎসা করাতে আসা রোগীর পা বাদ! পরে মৃত্যু, কাঠগড়ায় মেডিকা

কলকাতা: ফের চিকিৎসায় গাফিলতিতে মৃত্যুর অভিযোগ। এবার কাঠগড়ায় শহরের আরেক বেসরকারি হাসপাতাল। হৃদরোগের চিকিৎসা করাতে আসা এক রোগীর পা বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠল মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে।
বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল ফেরাতে কড়া মনোভাব নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তার পরেও রোগ সারছে না! ফের চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগীমৃত্যুর অভিযোগ! আবারও অভিযোগের আঙুল মেডিকার দিকে! এবার অভিযোগ, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর অস্ত্রোপচার করে পা বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত গিয়েছে প্রাণ!
বুকে যন্ত্রণা অনুভব করায়, গত ৬ মার্চ মেডিকায় আনা হয় পাটুলির বাসিন্দা সুনীল পাণ্ডেকে। জরুরি বিভাগে থাকাকালীনই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। এরপরই ভর্তি করে নেওয়া হয় সুনীলকে।
প্রথমে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, তাঁর পর বাঁ পায়ে অস্ত্রোপচার হয়। জোড়া অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে ভেন্টিলেশনে পাঠানো হয়। ১১ মার্চ, সুনীলের হাঁটুর নিচ থেকে বাঁ পা কেটে বাদ দেন চিকিৎসকরা। সোমবার ভোরে মারা যান তিনি।
মৃতের স্ত্রী সুজাতা পাণ্ডের দাবি, প্রাণে বাঁচাতে, পা বাদ দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্তেও সম্মতি দিই। বলা হয়েছিল সফল। ২ দিনের মধ্যে ভেন্টিলেশন থেকে বের করা হবে। কিন্তু ১২ মার্চ বিকেলে বলা হল, অবস্থার অবনতি হচ্ছে।
রোগীর পরিবারের তোলা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে মেডিকা কর্তৃপক্ষ। অস্ত্রোপচার করে পা বাদ দেওয়ারও নানা যুক্তি খাড়া করেছে তারা। মেডিকা গ্রুপ মেডিক্যাল ডিরেক্টর কর্নেল সৌমেন বসু বলেন, আমরা সর্বোপরি চেষ্টা করেছি রোগীকে বাঁচানোর। স্ত্রীর সম্মতি নিয়েছি। হৃদরোগে পা কাটা স্বাভাবিক। রক্তের মধ্যে দানা হয়ে যায়।
যদিও হাসপাতালের এই সব ব্যাখ্যা মানতে নারাজ রোগীর পরিবার। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতির জেরেই প্রিয়জনকে হারাতে হল! এই মর্মে পূর্ব যাদবপুর থানায় অভিযোগ জানিয়েছে তারা। মৃতের দাদা বলেন, আমরা চাই সঠিক তদন্ত।
বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যাধি দূর করতে ইতিমধ্যেই আইন করেছে রাজ্য সরকার। গাফিলতি, অতিরিক্ত বিলিং, দেহ আটকে রাখা, এসব যে বরদাস্ত করা হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে প্রশাসন। এর পরেও ফের সেই গাফিলতির অভিযোগ বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে!

First Published: Monday, 13 March 2017 6:07 PM