মেয়েকে ১৫ দিন ধরে ‘ধর্ষণ’, প্রাণনাশের ‘হুমকি’, গ্রেফতার বাবা

By: Web Desk, ABP Ananda | Last Updated: Wednesday, 14 June 2017 8:01 PM
মেয়েকে ১৫ দিন ধরে ‘ধর্ষণ’, প্রাণনাশের ‘হুমকি’, গ্রেফতার বাবা

মুর্শিদাবাদ: ফাদার্স ডে-তেই কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মুর্শিদাবাদে গ্রেফতার বাবা। বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ। প্রতিবাদ করতে ভয় পেত মা, দাবি কিশোরীর। স্বামীর আচরণের কথা স্বীকার নির্যাতিতার মায়ের।
ফুটফুটে মেয়েটা কাকে বলবে তার বড় হয়ে ওঠার যন্ত্রণার কথা। মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের দশম শ্রেণির পড়ুয়া কিশোরী বাড়ির কাউকেই মুখ ফুটে কিছু বলে উঠতে পারেনি। বাড়ির নিরাপদ আশ্রয়টাই হয়ে উঠেছিল আতঙ্কের।
অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে বাবাই। বাধা দিলে অস্ত্র দেখিয়ে মেয়েকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিত বলে অভিযোগ। নির্যাতিতা কিশোরী বলেছে, বাবা ধর্ষণ করেছে ১৫ দিন ধরে। অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিত।
বাবার প্রতি ঘৃণা জমছিল তিলতিল করে। গ্রাস করছিল লজ্জা। ঘটনার কথা মাকে বলার চেষ্টা করেছিল কিশোরী। সে জানায়, মাকে বলেছি। মা ভয় পায়, বলতে পারেনি। মায়ের দাবি, মেয়ের কথা শুনেও বাকি সন্তানদের কথা ভেবে মুখ খোলার সাহস পাননি। বলেন, মেয়ে আমাকে স্পষ্টভাবে বলতে পারেনি। ছোট বাচ্চা রয়েছে বলতে পারিনি। মেয়ে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলত।
তবে মাও টের পেয়েছিলেন মেয়ের প্রতি বাবার আচরণ। স্বামীকে বাধা দিয়েও কাজ হয়নি বলে তাঁর দাবি। বলেন, অত্যাচার করত, মেয়ের ঘরে গিয়ে। মানা করলে বকাবকি করত।
দিনদিন অসহ্য হয়ে উঠছিল বাড়ির পরিবেশ। শেষমেশ নিজেই থানায় যাওয়ার কথা ভাবে কিশোরী। সে জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর এক প্রতিবেশীকে নিয়ে পৌঁছে যায় রঘুনাথগঞ্জ থানায়। বাবার বিরুদ্ধে দায়ের করে ধর্ষণের অভিযোগ।
সে বলেছে, বাবার নাম বলতে ঘৃণা করছে। ওর শাস্তি চাই।
মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সকালে বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছে। নিশ্চিন্ত হয়েছে মেয়ে। আর অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা নয়, পড়াশোনা করে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায় সে।
মেয়ের সাহস দেখে ভরসা পেয়েছেন মা-ও। তিনিও স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থান-কাল-পাত্র আলাদা হলেও, মে মাসে ঠিক একইরকম ঘটনা ঘটেছিল কলকাতার সার্ভে পার্কে। সেখানে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেফতার হন সৎ বাবা।

First Published: Wednesday, 14 June 2017 8:01 PM